, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কচুয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আ-ত্ম-হ-ত্যা বরুড়ায় বেপরোয়া চোর চক্র: রাজাপুরে ভিপি মন্নানের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি কচুয়ার বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষানুরাগী মরহুম নুরুল আজাদের মৃত্যু বার্ষিকী পালিত বরুড়ায় বাকপ্রতিবন্ধী শ্যামলী বেগম দুই দিন ধরে নিখোঁজ বরুড়ায় সরকারি জায়গায় অনুমতি ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ বরুড়ায় দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি সহায়তার চেক বিতরণ কচুয়ায় নূরপুর ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ও প্রিন্টার উপহার দিলেন সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন শাক্কু কচুয়ায় স্বপ্নবাজ সংগঠনের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ভাবনা আলোচনা সভা   ফজরের নামাজে গিয়ে আর ফেরেননি বরুড়ার আবু তাহের, ৩ দিন ধরে নিখোঁজ বরুড়ায় বিএনপির যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত

বরুড়ায় পারিবারিক বিরোধ মেটানোর নামে নিয়ে গিয়ে গৃহবধূকে মাদক খাইয়ে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : ১০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৩৬০ পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

 

কুমিল্লার বরুড়ায় এক গৃহবধূকে (২১) জোরপূর্বক মাদক (ইয়াবা) সেবন করিয়ে রাতভর ধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে জাকির হোসেন ওরফে সুমন (৩৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

 

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে বরুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত জাকির হোসেন সুমন বরুড়া উপজেলার ১১নং গালিমপুর ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের (করের বাড়ি) অতিদুর রহমান ওরফে আব্দুল আহাদের ছেলে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামীর বাড়ি লাকসাম উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জাকির হোসেন সুমন ভুক্তভোগী গৃহবধূর দূরসম্পর্কের প্রতিবেশী মামা। গৃহবধূর স্বামীর সাথে পারিবারিক মনোমালিন্য হওয়ায় তিনি কিছুদিন যাবৎ বরুড়া থানাধীন পিত্রালয়ে বসবাস করছিলেন। এই সুযোগে অভিযুক্ত সুমন বিভিন্ন সময় তাঁকে ফুসলাতে থাকে। গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সুমন তাঁদের পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে গৃহবধূর মায়ের অনুমতি নিয়ে তাঁকে সাথে নেন।

 

পরবর্তীতে ওই দিন রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগীকে তাঁর স্বামীর বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে নেন সুমন। তবে তিনি স্বামীর বাড়ি না নিয়ে কৌশলে ভুক্তভোগীকে বরুড়া থানার গালিমপুর এলাকার একটি টিনশেড বসতঘরে নিয়ে যান। সেখানে গৃহবধূর হাত বেঁধে, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করিয়ে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেন। এরপর ওই রাত ৯টা থেকে পরদিন ১৯ জুন ভোর ৫টা পর্যন্ত ভুক্তভোগীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন সুমন।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৯ জুন সকাল ১০টার দিকে লাকসাম থানার বিজরা বাজার সংলগ্ন মমিন হাউজিংয়ের একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাঁকে আটকে রেখে আরও দুইবার ধর্ষণ করা হয়। পুরো ধর্ষণের ঘটনাটি অভিযুক্ত সুমন তাঁর ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখেন।

 

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কোনোমতে সেখান থেকে উদ্ধার হয়ে তাঁর পিত্রালয়ে ফিরে আসেন। প্রথমে লোকলজ্জা ও পারিবারিক সম্মানের ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখলেও, অভিযুক্ত সুমন তাঁর মোবাইলে থাকা আপত্তিকর ভিডিওটি ভুক্তভোগীর স্বামী ও পিতা-মাতাসহ আত্মীয়-স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন। ভিডিওটি ডিলিট করার বিনিময়ে সুমন ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তা এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন। পরবর্তীতে বিষয়টি আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বরুড়া থানায় হাজির হয়ে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

​এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জাকির হোসেন সুমনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, যার ফলে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয়

কচুয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আ-ত্ম-হ-ত্যা

বরুড়ায় পারিবারিক বিরোধ মেটানোর নামে নিয়ে গিয়ে গৃহবধূকে মাদক খাইয়ে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

 

কুমিল্লার বরুড়ায় এক গৃহবধূকে (২১) জোরপূর্বক মাদক (ইয়াবা) সেবন করিয়ে রাতভর ধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে জাকির হোসেন ওরফে সুমন (৩৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

 

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে বরুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত জাকির হোসেন সুমন বরুড়া উপজেলার ১১নং গালিমপুর ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের (করের বাড়ি) অতিদুর রহমান ওরফে আব্দুল আহাদের ছেলে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামীর বাড়ি লাকসাম উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জাকির হোসেন সুমন ভুক্তভোগী গৃহবধূর দূরসম্পর্কের প্রতিবেশী মামা। গৃহবধূর স্বামীর সাথে পারিবারিক মনোমালিন্য হওয়ায় তিনি কিছুদিন যাবৎ বরুড়া থানাধীন পিত্রালয়ে বসবাস করছিলেন। এই সুযোগে অভিযুক্ত সুমন বিভিন্ন সময় তাঁকে ফুসলাতে থাকে। গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সুমন তাঁদের পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে গৃহবধূর মায়ের অনুমতি নিয়ে তাঁকে সাথে নেন।

 

পরবর্তীতে ওই দিন রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগীকে তাঁর স্বামীর বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে নেন সুমন। তবে তিনি স্বামীর বাড়ি না নিয়ে কৌশলে ভুক্তভোগীকে বরুড়া থানার গালিমপুর এলাকার একটি টিনশেড বসতঘরে নিয়ে যান। সেখানে গৃহবধূর হাত বেঁধে, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করিয়ে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেন। এরপর ওই রাত ৯টা থেকে পরদিন ১৯ জুন ভোর ৫টা পর্যন্ত ভুক্তভোগীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন সুমন।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৯ জুন সকাল ১০টার দিকে লাকসাম থানার বিজরা বাজার সংলগ্ন মমিন হাউজিংয়ের একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাঁকে আটকে রেখে আরও দুইবার ধর্ষণ করা হয়। পুরো ধর্ষণের ঘটনাটি অভিযুক্ত সুমন তাঁর ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখেন।

 

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কোনোমতে সেখান থেকে উদ্ধার হয়ে তাঁর পিত্রালয়ে ফিরে আসেন। প্রথমে লোকলজ্জা ও পারিবারিক সম্মানের ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখলেও, অভিযুক্ত সুমন তাঁর মোবাইলে থাকা আপত্তিকর ভিডিওটি ভুক্তভোগীর স্বামী ও পিতা-মাতাসহ আত্মীয়-স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন। ভিডিওটি ডিলিট করার বিনিময়ে সুমন ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তা এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন। পরবর্তীতে বিষয়টি আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বরুড়া থানায় হাজির হয়ে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

​এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জাকির হোসেন সুমনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, যার ফলে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।