
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় সরকারবিরোধী স্লোগান ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে লাঠিসোটা নিয়ে মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দাবি, তারা ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন।
গত ১৬ আগস্ট বরুড়া থানায় ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৮/৯ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয় (মামলা নম্বর: ১৪)। মামলাটি দায়ের করেছেন বরুড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: সাঈদ মিয়া। মামলায় ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৩:৩০ ঘটিকায় বরুড়া থানাধীন ৩নং খোশবাস উত্তর ইউনিয়নের আরিফপুর সাকিনে অবস্থিত ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ মাঠে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানার ও লাঠিসোটা নিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে আসামিরা ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পাল্টা দাবি, ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে তারা এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দোয়ার আয়োজনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি হিসেবে উল্লেখ করে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামিরা হলেন, আরিফপুর গ্রামের মিনহাজুল ইসলাম (২৮), সাব্বির সরদার (২৬), ফারুক (২১), সাহার পড়ুয়া গ্রামের আবুল বাশার (৩৭), আরিফপুরের আরিফ পাটোয়ারী (২৮), রাশেদ তালুকদার (৩১), ইসমাইল (২২), সফিউল্লাহ (২৬), সজীব ইমতিয়াজ (২৭), জাবেদ (২৪), জুয়েল তালুকদার (৩০), সাগর হোসেন (২৮), মো: ফরাদ (৩২), মো: সাহেব আলী (৫৪), জিএস শাহজাহান (৪৫), সাইফুল ইসলাম আকন্দ (৪৮), রিয়াজ (২৮), মিজান কমিশনার (৪৫), আশরাফুল খন্দকার (২৬), মনোয়ার (৪২), সুমন (৩৮), বাড়াইপুর গ্রামের মেহরাব হোসেন অপি (২৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জন।
মামলাটি রেকর্ড করেছেন বরুড়া থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) কাজী নাজমুল হক এবং এটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মিশন চৌধুরীকে।

বরুড়া প্রতিনিধি 






















