
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবহেলা ও অনিয়মের মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন গাজী সোহাগ নামে এক ভুক্তভোগী ব্যক্তি। তার জীবিত বাবাকে কাগজে-কলমে ‘মৃত’ দেখিয়ে গত দুই বছর ধরে বয়স্ক ভাতার টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
গত ২৪ জুন (বুধবার) দুপুর ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ভাইরাল হয়। এই ভিডিওতে ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী গাজী সোহাগ।
ভিডিওতে দেখা যায়, গাজী সোহাগ বরুড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কক্ষগুলো ঘুরিয়ে দেখান। দুপুর ১২টা বাজলেও সেই সময় কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতি দেখা যায়নি। এ সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি সরাসরি তুলে ধরেন।
ভুক্তভোগী গাজী সোহাগ দাবি করেন, তার বাবা এখনো জীবিত আছেন। কিন্তু প্রায় দুই বছর আগে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের পক্ষ থেকে তার জীবিত বাবাকে মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয় এবং ভাতার টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকার চেয়ে আসছেন।
গাজী সোহাগ আরও জানান, এই বিষয়ে তিনি বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগের পর সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাননি বলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জীবিত মানুষকে মৃত বানিয়ে ভাতা কর্তন এবং সরকারি অফিসে এসে সেবা না পাওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

বরুড়া প্রতিনিধি 




















