, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শনিবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় তুরাগের নদী থেকে ৩ লাশ উদ্ধার, মেহেন্দীগঞ্জে নিহত ১; ৫ নেতাকর্মী এখনও নিখোঁজ কাতারে বরুড়ার রেমিট্যান্স যোদ্ধা রাসেলের মৃত্যু বরুড়ায় সহস্রাধিক মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা রাজনীতি হতে হবে জনগণের সেবার জন্য: জনকল্যাণ পার্টির সভায় খায়রুল দেওয়ান জেলা পর্যায়ে রচনা প্রতিযোগিতায় ২য় ছোটতুলাগাঁও মহিলা কলেজের বুশরা কচুয়ায় পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, প্রেমিকা আটক; স্বামী পলাতক মাদক বিরোধী দিবসে বরুড়ায় ‘ভাব’-এর কর্মসূচি আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী কাস্টমস এজেন্টস এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের অবসর ও মরণোত্তর ভাতা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা উন্নীত

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী

 

আজ ২৬ জুন, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল আন্দোলনের নেত্রী, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও ‘শহীদ জননী’ জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৪ সালের এই দিনে ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে আমেরিকার মিশিগানের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এই মহীয়সী নারী। তাঁর এই প্রয়াণ দিবসে দেশজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছে।

 

​১৯২৯ সালের ৩ মে মুর্শিদাবাদে জন্ম নেওয়া জাহানারা ইমাম পেশাগত জীবনে ছিলেন একজন সফল শিক্ষাবিদ। তবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ তাঁর জীবনের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেয়। মুক্তিযুদ্ধে তিনি তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শাফী ইমাম রুমীকে হারান। দেশের স্বাধীনতার জন্য সন্তান উৎসর্গের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই অবরুদ্ধ দেশে বিনা চিকিৎসায় মারা যান তাঁর স্বামী শরীফ ইমাম।

 

​দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রুমীর সহযোদ্ধারা জাহানারা ইমামকে সব মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে বরণ করে নেন। এক সন্তান হারানোর বেদনাকে বুকে চেপে তিনি হয়ে ওঠেন গোটা দেশের ‘শহীদ জননী’। পরবর্তীতে তাঁর রচিত ডায়েরিভিত্তিক গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য ও জীবন্ত দলিল হিসেবে স্থান করে নেয়।

 

​স্বাধীন বাংলাদেশে জাহানারা ইমামের সবচেয়ে ঐতিহাসিক অবদান ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে তোলা তীব্র গণআন্দোলন। ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’। শহীদ জননীর অকুতোভয় নেতৃত্বে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণআদালত গঠিত হয় এবং একাত্তরের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী বিচার সম্পন্ন করা হয়। রাষ্ট্রীয় ও নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মুখেও তিনি এই আন্দোলনকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের প্রকৃত বিচারের পথ সুগম করে।

 

​আজকের এই বিশেষ দিনে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ জননীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। বক্তারা বলছেন, বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনা রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ মুক্ত সমাজ গঠনে জাহানারা ইমামের আপসহীন নেতৃত্ব চিরকাল বাঙালি জাতির জন্য এক অবিস্মরণীয় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয়

শনিবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশের সময় : ১৬ ঘন্টা আগে

 

আজ ২৬ জুন, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল আন্দোলনের নেত্রী, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও ‘শহীদ জননী’ জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৪ সালের এই দিনে ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে আমেরিকার মিশিগানের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এই মহীয়সী নারী। তাঁর এই প্রয়াণ দিবসে দেশজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছে।

 

​১৯২৯ সালের ৩ মে মুর্শিদাবাদে জন্ম নেওয়া জাহানারা ইমাম পেশাগত জীবনে ছিলেন একজন সফল শিক্ষাবিদ। তবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ তাঁর জীবনের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেয়। মুক্তিযুদ্ধে তিনি তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শাফী ইমাম রুমীকে হারান। দেশের স্বাধীনতার জন্য সন্তান উৎসর্গের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই অবরুদ্ধ দেশে বিনা চিকিৎসায় মারা যান তাঁর স্বামী শরীফ ইমাম।

 

​দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রুমীর সহযোদ্ধারা জাহানারা ইমামকে সব মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে বরণ করে নেন। এক সন্তান হারানোর বেদনাকে বুকে চেপে তিনি হয়ে ওঠেন গোটা দেশের ‘শহীদ জননী’। পরবর্তীতে তাঁর রচিত ডায়েরিভিত্তিক গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য ও জীবন্ত দলিল হিসেবে স্থান করে নেয়।

 

​স্বাধীন বাংলাদেশে জাহানারা ইমামের সবচেয়ে ঐতিহাসিক অবদান ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে তোলা তীব্র গণআন্দোলন। ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’। শহীদ জননীর অকুতোভয় নেতৃত্বে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণআদালত গঠিত হয় এবং একাত্তরের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী বিচার সম্পন্ন করা হয়। রাষ্ট্রীয় ও নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মুখেও তিনি এই আন্দোলনকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের প্রকৃত বিচারের পথ সুগম করে।

 

​আজকের এই বিশেষ দিনে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ জননীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। বক্তারা বলছেন, বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনা রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ মুক্ত সমাজ গঠনে জাহানারা ইমামের আপসহীন নেতৃত্ব চিরকাল বাঙালি জাতির জন্য এক অবিস্মরণীয় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।