
নদী ভাঙ্গন এলাকার মতো কচুয়া উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের কাদিরখিল গ্রামে ৮ একর দিঘীতে অপরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করায় শাহ আলম নামের এক অসহায় পরিবারের বসতবাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বসত ঘর, রান্নাঘর ও বাড়ির গাছপালা মাটির নিচে পড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসহায় পরিবার বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনরকম মানবেতর জীবন-যাপন করছে। রবিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় দিঘীর পাড়ে বসে অসহায় শাহ আলম মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম মাথায় হাত দিয়ে কান্না করছে। এসময় বিলকিস বেগম কান্না করে বলেন, প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি, এই বসত ভিটাবাড়ি ছাড়া আমার কোন সম্পত্তি নেই। মাছ চাষ করার জন্য দিঘীর পানি কমালে আমার বসতভিটা দীঘিতে তলিয়ে যায়। এতে টয়লেট,রান্নাঘর ও বসতঘরের প্রায় অংশ দিঘির তলায় পরে রয়েছে। দিঘির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাহেব আলী সিকদারের কাছে দুই হাত ধরে আকুতি জানালো তার মন গলেনি। আজ আমি ছেলে সন্তান পরিবারকে নিয়ে কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো। মহান আল্লাহতালার কাছে আমার বিচারটা ছেড়ে দিলাম। দিঘির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাহেব আলী সিকদার সাহেব একজন ক্ষমতাশালী লোক বলে আমার সাথে অমানবিক কাজ করেছে। আমার বাড়ির প্রায় অংশ ভেঙ্গে দিঘিতে বিলীন হয়ে গিয়েছে, দেখতে কেউ আসেনি এবং কি কারো মাধ্যমে খোঁজ-খবর নেয়নি।
স্থানীয়রা জানান, এই গ্রামের ৮ একর দিঘীটি ৩ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। দিঘির চারপাশে মানুষের বসতবাড়ি, গাছপালা, পাকা ঘাটলা, স্থাপনা গুলো প্রায় সময় ভেঙ্গে দিঘীতে তলিয়ে যায়। এত স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করলে কমিটির লোকজন কারো কথা শোনেনি। দিঘিতে অপরিকল্পিত মাছ চাষ করায় দিঘির চারপাশের লোকজনের প্রতি বছরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে কাজী শাহ আলম মিয়ার বসতভিটা, বাড়িঘর, সকল কিছু ভেঙ্গে দিঘীতে প্রায় তলিয়ে যাচ্ছে । এই বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দিঘির পরিচালনা কমিটিকে অবগত করলে, কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। নিরুপা হয়ে ওই পরিবারটি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই জায়গায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। যেকোনো মুহূর্ত বসতঘর এর জায়গাটি ভেঙে গেলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
দিঘীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাহেব আলী সিকদার বলেন, এই দিঘির পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেকে দায়িত্ব আছেন। দিঘীর ইজারার টাকা সবাই ভাগ বন্টন করে নিয়ে যায়। দীঘিরচতুর্পাশে আশেপাশে বসবাসরত লোকজনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আমাদের দেখার মত সুযোগ নেই। ব্যক্তিগতভাবে দিঘীর কোন তহবিল নেই।

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া 



















