কুমিল্লার বরুড়ায় মাদরাসার এক শিশুশিক্ষার্থীকে (৯) বলাৎকারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বরুড়া উপজেলা ছাত্রসেনার সভাপতি ও মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আতিক উল্লাহ। পরবর্তীতে ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) তিনি আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি লাভ করেন।
শিক্ষক আতিক উল্লাহর মুক্তির পর তার অনুসারী ও সমর্থকেরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে একটি 'মব' (উত্তেজিত জনতা) সৃষ্টি করা হয়েছিল, যাতে শিক্ষক আতিক উল্লাহকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়।
এর আগে, গত ২৯ জুলাই (বুধবার) সকালে উপজেলার আড্ডা বাজার এলাকার একটি মাদরাসায় ওই শিশুশিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।
সংবাদ পেয়ে দুপুর ১টার দিকে বরুড়া থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শিক্ষক আতিক উল্লাহকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং কিল-ঘুষি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে।
উক্ত হামলায় এসআই মিশন চৌধুরীসহ পুলিশের অন্তত সাতজন সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে বরুড়া থানায় নিয়ে যায়। আহত পুলিশ সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পরদিন সন্ধ্যায় বরুড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সরকার জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত মব সৃষ্টি করে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া ও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছিল।
তবে শিক্ষক আতিক উল্লাহর জামিনে মুক্তির পর তার অনুসারীরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে প্রকৃত সত্য সবার সামনে তুলে ধরা আবশ্যক।