কুমিল্লার বরুড়ায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি বরুড়া শাখার নিকট বন্ধক রাখা জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যাংকের স্বার্থ ও বন্ধকী সম্পত্তির মূল্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
চিঠি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক বরুড়া শাখার গ্রাহক মো: বায়েজিদ (ইয়াসিন) তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স শাকিল এন্টারপ্রাইজ এন্ড অটো স মিল’-এর অনুকূলে ১১.০০ কোটি টাকা এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মক্কা টিম্বার এন্ড সাপ্লাইয়ার্স’-এর অনুকূলে ২.৮০ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ১৩.৮০ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ করেন।
উক্ত ঋণের বিপরীতে গ্রাহক বড়হাতুয়া, গহীন খালী, দক্ষিণ পীহর, উত্তর লতিফপুর, বর্তমানে আদমসার, বড়হরিপুর ও শাসনগাছা মৌজায় সর্বমোট ৫০৫.৯৩ শতক জমি ব্যাংকে বন্ধক রাখেন।
বর্তমানে উক্ত গ্রাহক খেলাপী ঋণগ্রহীতা ও পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলাসহ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ব্যাংকের বিনিয়োগ কমিটির সদস্যরা নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে সরজমিনে বন্ধকী সম্পত্তি পরিদর্শনে যান। সেখানে দেখা যায়, বড় হাতুয়া মৌজায় অবস্থিত শামীম ব্রিকস সংলগ্ন বিভিন্ন দাগে থাকা ১১৪.২০ শতক বন্ধকী জমিতে থাকা ব্যাংকের সাইনবোর্ড ফেলে দিয়েছে একদল ভূমিদস্যু। আক্তার হোসেন নামক এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে বেআইনিভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ও বিক্রি করা হচ্ছে।
অবাধে মাটি কাটার ফলে বন্ধকী জমিগুলো বিশাল গর্তে পরিণত হয়ে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যার ফলে ব্যাংক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এই অবস্থায় ব্যাংকের অনুকূলে থাকা সম্পত্তি রক্ষা করতে এবং উক্ত ভূমিদস্যুর হাত থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রি অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন জানিয়েছেন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক বরুড়া শাখার ভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক মো: আব্দুল মতিন পাটোয়ারী। উক্ত আবেদনের অনুলিপি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জকেও (ওসি) প্রদান করা হয়েছে।