কুমিল্লার বরুড়ায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতিসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭/৮ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা ও চোরাই মালামালসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
থানা ও পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর রামমোহন সাব-জোনাল অফিসের আওতাধীন বরুড়া থানার রহিমপুর এলাকায় স্থাপিত ১০ কেভিএ ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার গত ১৭ জুলাই গভীর রাতে চুরি হয়। রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় এই চুরির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই পল্লী বিদ্যুতের এনফোর্সমেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর টহল দল স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযানে নামে। অভিযানকালে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পুরাতন সবুজ রঙের সিএনজি অটোরিকশা, যার আনুমানিক মূল্য ৩ লক্ষ টাকা এবং কাটা বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মো: সাইমন (২১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তার সাথে থাকা অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জব্দ তালিকা মূলে উদ্ধারকৃত মালামাল ও সিএনজি থানায় নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে বরুড়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে নাম উল্লেখিত আসামিরা হলেন- সায়মন (২১), পিতা- মোতালেব, সাং- রহিমপুর, রোমান হোসেন (২৮)পিতা- তাজুল ইসলাম, সাং- ইলাশপুর (উত্তর খোশবাস ইউনিয়ন ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি) ,রাতুল (২০) পিতা- কামাল, সাং- রহিমপুর, রাব্বি (২৫)পিতা- ওসমান গনি, সাং- খোশবাস, মাসুদ (২১) পিতা- বাবুল, সাং- খোশবাস, রাকিব (২৩) পিতা- জামাল, সাং- ইলাশপুর ।
এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। বরুড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
এদিকে মামলায় নাম আসার পর অভিযুক্ত রোমান হোসাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি মাননীয় মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন ভাই এবং বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাউসার আহমেদ সেলিম ভাইয়ের প্রতি। আমার এই কঠিন সময়ে তাঁরা আমাকে মানসিকভাবে সাহস, শক্তি ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, “দুঃখজনকভাবে, কিছু স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহল মোটা অংকের বিনিময়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করাতে ভূমিকা রেখেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সত্যকে কখনো মিথ্যার মাধ্যমে পরাজিত করা যায় না। সত্যকে আড়াল করা যায়, কিন্তু পরাজিত করা যায় না।”
অন্যদিকে এই ঘটনাকে ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে বরুড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক লিটন পন্ডিত ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তীব্র নিন্দা ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি লেখেন, “বরুড়া উপজেলা ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও খোশবাস ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি রোমন হোসাইনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। কোন সাক্ষী ছাড়া, কোনরকম তদন্ত ছাড়া রোমনকে আসামি করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রোমনের ক্ষতি করতে গিয়ে আপনারা দলের ক্ষতি করেছেন। আশা করি অতি দ্রুত তদন্তপূর্বক সত্যিকারের আসামিদের বিচার করবেন এবং রোমনকে দায়মুক্তি দিবেন।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।