কুমিল্লার বরুড়া-ভাউকসার সড়কের পাঠানপাড়া বড় পুল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ খালটি এখন চরম পরিবেশ দূষণের শিকার। পলিথিন, প্লাস্টিক ও গৃহস্থালি বর্জ্যের স্তূপে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পুরো এলাকায় এক তীব্র আঠালো ও অস্বস্তিকর দুর্গন্ধময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একসময়ের সচল এই খালের একটি বড় অংশ জুড়ে কীভাবে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ও নানা অপচনশীল আবর্জনা জমে রয়েছে। বর্জ্যের তীব্রতায় খালের পানি কালচে ও দূষিত হয়ে পড়েছে, যা পরিবেশের জন্য এক বড় বিপর্যয়।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খালটি থেকে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা নির্গত হওয়া পচা দুর্গন্ধের কারণে আশেপাশের বাড়িঘর ও দোকানে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা এই দূষণের কারণে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন ধরণের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এছাড়া জমে থাকা নোংরা পানি এখন মশার নিরাপদ প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যা এলাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও এই সড়কে চলাচলকারী পথচারীদের এখন একটাই আকুল আবেদন, তারা এই নারকীয় পরিবেশ থেকে মুক্তি চান, একটু বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার মতো দুর্গন্ধমুক্ত স্বাভাবিক জীবন চান। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি খালটি দ্রুত খনন ও পরিষ্কার করার জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, দ্রুত এই বর্জ্যের স্তূপ অপসারণ করা না হলে শুধু জনস্বাস্থ্যই নয়, খালের আশেপাশের কৃষিজমি ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।